ডেস্ক রিপোর্টঃ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম ভাষণে তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার রাতে দেওয়া এই ভাষণ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচার করে। ভাষণের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে গঠিত নতুন সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল শাসন কাঠামো ও অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণই হবে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে আইনশৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান। দলীয় প্রভাব নয়, বরং আইনের শাসনই রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
পবিত্র মাহে রামাদান উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের প্রতি দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখার আহ্বান জানান। অতিরিক্ত মুনাফা পরিহার এবং সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে স্থিতিশীলতা আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রোজাদারদের সেহরি, ইফতার ও তারাবির সময় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারি ব্যয়ে সংযমের দৃষ্টান্ত স্থাপনের অংশ হিসেবে বিএনপি থেকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্য ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি আমদানি বা প্লট সুবিধা গ্রহণ করবেন না বলে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ন্যায়পরায়ণতা ও জবাবদিহিতার আদর্শ অনুসরণ করেই সরকার পরিচালিত হবে।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভাগীয় শহরগুলোর যানজট নিরসনে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সহজ করার উদ্যোগের কথাও জানান সরকারপ্রধান। রেল, নৌ, সড়ক ও সেতু খাতের কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে সারাদেশে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দক্ষতা অর্জনের আহ্বান জানান।
ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা সরকারকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি—সব নাগরিকের অধিকার সমান। দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতেই সরকার পরিচালিত হবে। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে তিনি ভাষণ শেষ করেন।




