ডিপ্লোম্যাটিক ডেস্কঃ
ট্যুরিজম মালয়েশিয়া এবং মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্র্যাভেল কাউন্সিল (এমএইচটিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে “ট্যুরিজম মালয়েশিয়া অ্যান্ড এমএইচটিসি নেটওয়ার্কিং ডিনার ২০২৬”। বুধবার (৮ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত এ জমকালো অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওথমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়া হেলথকেয়ার ট্র্যাভেল কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুরিয়াঘান্দি সুপিয়াহ এবং ট্যুরিজম মালয়েশিয়ার উপ-পরিচালক সোলেহুদ্দিন আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট খাতের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, মালয়েশিয়া সরকার ২০২৬ সালকে “ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬” হিসেবে ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশটির পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু বাজার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, যা পারস্পরিক বিশ্বাস, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে এ সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
তিনি জানান, গত বছর মালয়েশিয়া বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি পর্যটককে স্বাগত জানিয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৮৪.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ২০২৬ সালের জন্য বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখেরও বেশি পর্যটক আকর্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য মালয়েশিয়া একটি সহজলভ্য গন্তব্য। প্রতি সপ্তাহে প্রায় ২৮টি ফ্লাইট পরিচালিত হয় এবং চার ঘণ্টারও কম সময়ে দেশটিতে পৌঁছানো যায়। সমুদ্র সৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধুনিক নগর জীবন, শপিং সুবিধা এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতির সমন্বয়ে মালয়েশিয়া একটি পূর্ণাঙ্গ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করে।
স্বাস্থ্যসেবা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া বর্তমানে এ অঞ্চলের অন্যতম শীর্ষ মেডিকেল ট্যুরিজম গন্তব্য। দেশটি সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তি এবং দক্ষ চিকিৎসক সেবা প্রদান করছে। পাশাপাশি মুসলিম-বান্ধব পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্য বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষ সুবিধা সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, “ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬” কর্মসূচি ২০২৭ সাল পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা বৃদ্ধি এবং পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া এই প্রচারণায় কম পরিচিত পর্যটন গন্তব্যগুলোও তুলে ধরা হবে।
এছাড়া মালয়েশিয়ার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ঢাকায় ‘ফ্লেভারস অব মালয়েশিয়া: রমজান বুফে’ এবং ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ইয়ার ২০২৬: ঢাকা চ্যাপ্টার’ কর্মসূচি সফলভাবে আয়োজিত হয়, যেখানে মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতি উপস্থাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পর্যটন, স্বাস্থ্যসেবা এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




