নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) ঢাকায় এক বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়।

গুলশান-২ এর ক্রাউন প্লাজা হোটেলের শীর্ষ তলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক উপলক্ষে। দক্ষিণ আমেরিকা থিমে আয়োজিত নৈশভোজটির আয়োজন করে ঢাকাস্থ উরুগুয়ের অনারারি কনস্যুলেট।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ উরুগুয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে এবং দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। তিনি উভয় দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ে সফর বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, উরুগুয়ের প্রেসিডেন্ট এখনো ভারত সফর করেননি, তবে সেই সফরের পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরের সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তার মতে, রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের সফর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে।

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের সফর না হওয়া কোনো দেশের ক্ষেত্রেই কাম্য নয়। বাংলাদেশে দ্রুত অগ্রগতির ধারা দেখে উরুগুয়ে আশাবাদী বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক বিষয়। উরুগুয়ে গণতন্ত্রে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে এবং মনে করে গণতন্ত্রই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোত্তম পথ। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বাংলাদেশকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে চায়।

অনুষ্ঠানে উরুগুয়ের অনারারি কনসাল মোস্তাফা কামরুস সোবহান বলেন, আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে এই পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ নতুন বাণিজ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে। এ পরিস্থিতিতে উরুগুয়ে, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো দেশগুলোর সঙ্গে প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট বা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট হলে প্রায় ৫০ কোটি মানুষের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হতে পারে। চলতি বছরের জুলাইয়ে উরুগুয়ে মারকোসুরের চেয়ারম্যানশিপ গ্রহণ করবে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা বলেন, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের সম্পর্ক ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। বাংলাদেশের দক্ষিণ আমেরিকার প্রতি আগ্রহকে স্বাগত জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ–উরুগুয়ে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসে বাংলার মুখ-এর সম্পাদক মোহাম্মদ সজীবুল-আল-রাজীব।




