সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত দোয়া ও স্মরণসভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় ১৮টি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা তার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক চর্চা সুদৃঢ় হয় এবং একই সঙ্গে দেশ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুসংহত পথে এগিয়ে যায়।
আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসি বাংলাদেশ) আয়োজিত ‘মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে দোয়া ও স্মরণসভা’ সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। তার নেতৃত্বে একদিকে যেমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা পেয়েছে, তেমনি বেসরকারি খাতের বিকাশ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “গণতান্ত্রিক সংস্কার ও দারিদ্র্য বিমোচনে বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগ ছিল অতুলনীয়। তার নীতিমালাই দেশের বেসরকারি খাতের বিকাশ ও জাতীয় উন্নয়নের ভিত গড়ে দিয়েছে।”

তিনি বিএনপির দ্বিতীয় মেয়াদে জাপান, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়িত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাফকো (KAFCO) সার প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই সময় দেশের জিডিপি শক্তিশালী হয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে।

মাহবুবুর রহমান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বেসরকারিকরণে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। এই উদ্যোগের মাধ্যমেই বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশের পরিচিতি আরও সুদৃঢ় হয়।”
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে চান। এ লক্ষ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তার সঙ্গে সহযোগিতায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি) সভাপতি আবদুল হাই সরকার বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল—তিনি কম কথা বলতেন, বেশি শুনতেন। “তিনি ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন এবং ন্যায়বিচার ও নিজস্ব বিবেচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতেন।”
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, “বাংলাদেশের পোশাক খাতে সমৃদ্ধির যাত্রা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই শুরু হয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “তিনি আজীবন দেশ ও মানুষের কথা ভেবেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজায় উপস্থিত থাকার মতোই বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে পারাকে আমি সৌভাগ্য মনে করি।”
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) সভাপতি আবদুল মুক্তাদির বলেন, দেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশে যে উদারীকরণ নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তা মূলত বিএনপি ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাস্তবায়িত হয়েছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বিএনপির পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ড. আবদুল মঈন খান।
এছাড়া এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, চট্টগ্রাম চেম্বার, বিসিআই, বিআইএ, বিজিএমইএ, বিটিএমএ, এলএফএমইএবি, বিএপিএলসি, বিএসআইএ, বিসিএমএ, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশসহ বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।




