ডেস্ক রিপোর্ট:
পশ্চিম এশিয়ায় চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার রবিবার (২৪ মে ২০২৬) কুয়েতের ভ্রাতৃপ্রতিম জনগণের প্রতি বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে সংহতি ও বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ কুয়েত সরকারের কাছে প্রতীকীভাবে খাদ্যসামগ্রীর একটি শুভেচ্ছা চালান হস্তান্তর করেছে।

এই উদ্যোগটি একটি বৃহত্তর সহায়তা কার্যক্রমের অংশ, যার অধীনে ২৫ মে ২০২৬ থেকে শুরু করে একাধিক ফ্লাইটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে মোট ২৪০ টন অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যসামগ্রী কুয়েতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর দীর্ঘস্থায়ী বন্ধ থাকা এবং এর ফলে কুয়েতের সরবরাহ শৃঙ্খলের উপর সৃষ্ট চাপসহ বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে এই অবদান কুয়েতের কৌশলগত খাদ্য মজুদ শক্তিশালী করতে এবং জরুরি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উপলক্ষে আজ কুয়েত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যেখানে বর্তমানে কুয়েত সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমাইউন কবির কুয়েত রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শেখ জাররাহ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ-এর কাছে প্রতীকীভাবে পণ্য চালানটি হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকারের তিন সদস্যের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম এশিয়া) উপস্থিত ছিলেন। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, ওএসপি, এডব্লিউসি, পিএসসি, প্রতিনিধিদলের দাপ্তরিক কার্যক্রম, দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং হস্তান্তর অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা কবির কুয়েতের আমির শেখ মেশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহকে সম্বোধন করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে একটি চিঠি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে কুয়েতের জনগণের শান্তি, নিরাপত্তা ও কল্যাণের জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং দুই ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ব্যাপারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আলোচনার সময় উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মানবিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনশক্তি, খাদ্য নিরাপত্তা, বেসামরিক বিমান চলাচলসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে কুয়েত রাষ্ট্রে এই শুভেচ্ছা খাদ্য চালান প্রেরণ দুই দেশের মধ্যকার গভীর ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন এবং আঞ্চলিক অনিশ্চয়তা ও প্রতিকূলতার সময়ে মিত্র দেশগুলোকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অব্যাহত অঙ্গীকারের পরিচায়ক।
উভয় পক্ষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, বন্ধুত্ব এবং বহুমুখী সহযোগিতার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ব্যাপারে তাদের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




