আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ
জাপানের রাজধানী টোকিওতে আজ বাংলাদেশের ৫৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহিদ, সম্ভ্রম হারানো মা-বোন ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি ও অগ্রযাত্রার চিত্র তুলে ধরা হয়।
দিবসের শুরুতে দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন। এরপর চ্যান্সারি মিলনায়তনে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রদত্ত বাণীসমূহ পাঠ করা হয়। এছাড়া ২৬ মার্চের উপর চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর নির্মিত বিশেষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শেষে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
পাশাপাশি দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে টোকিওর ঐতিহ্যবাহী হোটেল নিউ ওতানি-এর ‘হো হল’ (Ho Hall)-এ পৃথক একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুনিমিতসু আয়ানো (KUNIMITSU Ayano)।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মোঃ দাউদ আলী জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এক নতুন যুগে প্রবেশ করেছে। তিনি বলেন, নবনির্বাচিত সরকার নতুন উদ্যম, ধারাবাহিক নীতি এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৪তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি।
রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখিতা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের মাধ্যমে জাপানের শ্রমবাজারে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টির জন্য তিনি জাপান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কুনিমিতসু আয়ানো বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উষ্ণ অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, জাপান বাংলাদেশে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সাধারণ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়াকে স্বাগত জানায়।
তিনি আরও বলেন, নবগঠিত সরকারের সাথে জাপানের ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা থেকে শুরু করে জনগণের মেলবন্ধন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়সহ বিস্তৃত ক্ষেত্রগুলোতে এই সম্পর্ক সম্প্রসারিত হয়েছে। আগামী দিনে এই বন্ধুত্ব আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লিগের (JBPFL) প্রেসিডেন্ট তারো আসো (Taro Aso)-এর একটি লিখিত বিশেষ বার্তা পাঠ করা হয়। বার্তায় তিনি বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে জাপানের অবিচল সমর্থনের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে জাপানের প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী, জাপান পার্লামেন্টের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং জাপানের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাপানে বসবাসরত সর্বস্তরের প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশগ্রহণ করেন।




